প্রতিবছর অনার্স ও মাস্টার্স পাস করে বের হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বর্তমানে ৪৭ শতাংশই পুরোপুরি বেকার বলে জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন। তিনি বলেন, দেশে বেকারত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হলো শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে কর্মবাজারের চাহিদার অসামঞ্জস্য বা ‘স্কিল মিসম্যাচ’।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের হলরুমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবৃত্তি ও ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা যে ধরনের শিক্ষার্থী তৈরি করছি এবং যে ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তা মূলত মুখস্থনির্ভর। সুবিধা, অসুবিধা, সূচনা, উপসংহার ও বৈশিষ্ট্য এ ধরনের বিষয় মুখস্থ করে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় ভালো ফল করছে। কিন্তু এভাবে কর্মবাজারের উপযোগী দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব নয়।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সিলেবাসেও এ ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার প্রভাব ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত ১৫-১৭ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে আমরা এ বিষয়ে কথা বলেছি। কিন্তু তখন আমাদের কথা শোনার জন্য কেউ প্রস্তুত ছিলেন না।’

বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনার দায়িত্বে এসে শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘আমাদের মাননীয় উপাচার্য, দুই প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, আমি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই একটি বিষয়ে একমত যে আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে চাই।’

তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে আইসিটি-ভিত্তিক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আইসিটির ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং বহুভাষিক দক্ষতা অর্জনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অধ্যাপক নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘এই ৪৭ শতাংশ বেকারত্বের মূল কারণ হচ্ছে স্কিল মিসম্যাচ। আমরা যখন নিয়োগদাতাদের কাছে জানতে চাই, তারা কেন শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ দিচ্ছে না এরও একটি কারণ আছে। আপনি যদি একটি কোম্পানির মালিক হন, তাহলে এমন একজন ছেলে বা মেয়েকেই চাইবেন, যার মাধ্যমে আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন পূরণ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু সূচনা, উপসংহার, সুবিধা-অসুবিধা ও বৈশিষ্ট্য মুখস্থ করে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাজ করা যায় না। তাই ইন্টার্নশিপ বা চাকরির সুযোগ না পাওয়ার ক্ষেত্রে ঘাটতিটা আমাদেরই। আমাদের শিক্ষার্থীদের সেভাবেই তৈরি করতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।

তিনি আরও বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চেহারা পরিবর্তন হবে, বাংলাদেশের গ্র্যাজুয়েটদের চেহারাও পরিবর্তন হবে। আমরা শুধু স্কিল মিসম্যাচের গ্যাপ পূরণ করব না, কর্মবাজারের উপযোগী দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরিতেও সক্ষম হব।’